Monday, August 27, 2012

The "Imaginary Line" that Divides India and Bangladesh - NYTimes.com

The "Imaginary Line" that Divides India and Bangladesh - NYTimes.com:


Invisible Americans Get the Silent Treatment

By Bill Moyers, Moyers & Company
26 August 12

t's just astonishing to us how long this campaign has gone on with no discussion of what's happening to poor people. Official Washington continues to see poverty with tunnel vision - "out of sight, out of mind."
And we're not speaking just of Paul Ryan and his Draconian budget plan or Mitt Romney and their fellow Republicans. Tipping their hats to America's impoverished while themselves seeking handouts from billionaires and corporations is a bad habit that includes President Obama, who of all people should know better.
Remember: for three years in the 1980's he was a community organizer in Roseland, one of the worst, most poverty-stricken and despair-driven neighborhoods in Chicago. He called it "the best education I ever had." And when Obama left to go to Harvard Law School, author Paul Tough writes in The New York Times, he did so, "to gain the knowledge and resources that would allow him to eventually return and tackle the neighborhood's problems anew." There's a moving line in Dreams from My Father where Obama writes: "I would learn power's currency in all its intricacy and detail" and "bring it back like Promethean fire."
Oddly, though, for all his rhetorical skills, Obama hasn't made a single speech devoted to poverty since he moved into the White House.
Five years ago, he was one of the few politicians who would talk about it. Here he is in July 2007, speaking in Anacostia, one of the poorest parts of Washington, D.C.:
"The moral question about poverty in America - How can a country like this allow it? - has an easy answer: we can't. The political question that follows - What do we do about it? - has always been more difficult. But now that we're finally seeing the beginnings of an answer, this country has an obligation to keep trying."
Barack Obama the candidate said he wanted to spend billions on a nationwide program similar to Geoffrey Canada's Harlem Children Zone in New York City, widely praised for its focus on comprehensive child development. In the last three years, only $40 million have been spent with another $60 million scheduled for local community grants.
Obama's White House team insisted their intentions were good, but the depth of the economic meltdown passed along by their predecessors has kept them from doing more. And yes, billions have been spent on direct aid to families in the form of welfare, food stamps, housing vouchers and other payments. What's needed, as Paul Tough at the Times and others say, is a less scattershot, more comprehensive program that gets to the root of the problem, focusing on education and mentoring. Not easy to do when a disaffected middle class that votes says hey, what about us? - and the wealthy one percent who lay out the fat campaign contributions simply say, so what?
Just a few days ago, The Chronicle of Philanthropy issued a report on charitable giving. Among its findings: "Rich people who live in neighborhoods with many other wealthy people give a smaller share of their incomes to charity than rich people who live in more economically diverse communities." Responding to that study, social psychologist Paul Piff told National Public Radio, "The more wealth you have, the more focused on your own self and your own needs you become, and the less attuned to the needs of other people you also become."
Those few who dedicate themselves to keeping the poor ever in sight realize how grave the situation really is. The Associated Press reports that, "The number of Americans with incomes at or below 125 percent of the poverty level is expected to reach an all-time high of 66 million this year." A family of four earning 125 percent of the federal poverty level makes about $28,800 a year, according to government figures.
That number's important because 125 percent is the income limit to qualify for legal aid, but although that family may qualify for help, budgets for legal services have been slashed, too, and pro bono work at the big law firms has fallen victim to downsizing. So it's not surprising, the AP goes on to say, that there's a crisis in America's civil courts because people slammed by the financial meltdown - overwhelmed by foreclosure, debt collection and bankruptcy cases - can't afford legal representation and have to represent themselves, creating gridlock in our justice system - and one more hammer blow for the poor.
We know, we know: It is written that, "The poor will always be with us." But when it comes to our "out of sight, out of mind" population of the poor, you have to think we can help reduce their number, ease the suffering, and speak out, with whatever means at hand, on their behalf and against those who would prefer they remain invisible. Speak out: that means you and me, and yes, Mr. President, you, too. You once told the big bankers on Wall Street that you were all that stood between them and the pitchforks of an angry public. How about telling the poor you will make sure our government stands between them and the cliff?


'via Blog this'

Thursday, May 10, 2012

একদল কিশোরের বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টা - প্রথম আলো

একদল কিশোরের বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টা - প্রথম আলো:

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ

একদল কিশোরের বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টা

শামীম আমিনুর রহমান | তারিখ: ২৩-০৩-২০১২
  • ধরা পড়ার পর ‘মাশরিক’ পত্রিকায় প্রকাশিত পাঁচ বন্ধুর(উপরে), মার্শাল ল কোর্টের সামনে বিমান ছিনতাইয়��
    ধরা পড়ার পর ‘মাশরিক’ পত্রিকায় প্রকাশিত পাঁচ বন্ধুর(উপরে), মার্শাল ল কোর্টের সামনে বিমান ছিনতাইয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচ কিশোর ও তাঁদের অভিভাবকেরা(নিচে)
    ছবি: জিয়াউল হক, আলী আনসার, আলতাফুর, আখতার হোসেন ও কায়সার হালিম
  • করাচি এয়ারপোর্টে যাওয়ার কয়েক দিন আগে বৈঠক শেষে তোলা ছবি। (বাঁ থেকে) আক্তার, মন্টু ও কায়সার
    করাচি এয়ারপোর্টে যাওয়ার কয়েক দিন আগে বৈঠক শেষে তোলা ছবি। (বাঁ থেকে) আক্তার, মন্টু ও কায়সার
1 2
বাংলাদেশে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলছে, এ সময় করাচিতে পাঁচ বাঙালি কিশোর অস্ত্র জোগাড় করে পরিকল্পনা নিল পিআইএর বিমান ছিনতাইয়ের। কিন্তু পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেল...

আলতাফুরের খোঁজ পাই আমার পরিচিত এক মুক্তিযোদ্ধা বৈমানিকের কাছে। আলতাফুর ছিলেন পাঁচ কিশোর দলের একজন যাঁরা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই, বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃতি আদায় এবং পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালিদের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের করাচিতে বসে পরিকল্পনা নিয়েছিল পিআইএর একটি বিমান ছিনতাইয়ের। আলতাফুর ছিলেন মূলত ওই কিশোর দলটির নেতা। প্রথমে এই ঘটনাটা জেনে অবাক হয়েছি ভীষণরকম, বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়নি।
তারপরও আলতাফুরকে খুঁজতে তাঁর অফিসে গিয়ে হাজির হলাম। সম্ভবত সেটি ছিল কোনো ছুটির দিন। পুরো অফিস ফাঁকা। সাক্ষাত হলো মাঝবয়সী সুদর্শন এক ভদ্রলোকের সঙ্গে। তিনিই আলতাফুর। তাঁর ঘরে বসে আলাপ শুরু হলো। আলতাফুর ফিরে গেলেন তাঁর ফেলে আসা কৈশোরের সেই স্বর্ণালি অধ্যায়ে। আমি ক্রমশ তাঁর স্মৃতির পাতায় নিমজ্জিত হতে থাকলাম।
১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পিআইএর একটি বিমান ছিনতাই করার কথা মাথায় আসে আলতাফুরের। আলতাফুর তখন পাকিস্তানের করাচিতে তাঁর পরিবারের সঙ্গে থাকেন। করাচির বাংলা স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র। গোপনে স্কুলের আরো কয়েকজন বাঙালি বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা করলেন যে, যাত্রীবেশে টিকিট কেটে পিআইএর একটি বিমানে চড়ে বসবেন তাঁরা। তারপর বিমান আকাশে উড়ার পর অস্ত্রের মুখে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবেন, যেমনটা তাঁরা সিনেমায় দেখেছেন।
ওই পরিকল্পনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আলতাফুর বলেন, ‘পরিকল্পনা নিলাম ঠিকই। কিন্তু সমস্য অনেক। টিকিটের জন্য দরকার টাকার, অস্ত্রও যোগাড় করতে হবে, সেটা মোটেও সহজ কাজ নয়। এছাড়া মেটাল ডিটেক্টরকে ফাকি দিয়ে অস্ত্র নিয়ে বিমানে উঠতে হবে। আমরা প্লেনবিষয়ক নানা ধরনের বুলেটিন ও ডায়াগ্রাম পড়তে শুরু করলাম। সুযোগ করে এয়ারপোর্টে গিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করলাম।’
একাত্তরের নভেম্বরে একদিন আলতাফুর ও তাঁর বন্ধুরা করাচির জাহাঙ্গীর পার্কে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই ওই পার্কে বেলুচিস্তানের কোয়েটা শহরের অধিবাসী জনৈক দুররানির সঙ্গে তাঁদের পরিচয় ঘটে। দুররানি কোয়েটা থেকে কী এক কাজে করাচিতে এসেছিলেন এবং তখন ওই পার্কে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। কথা প্রসঙ্গে দুররানি জানান, কোয়েটায় অনায়াসে পিস্তল কেনা যায়। তিনি নিজেকে সংগ্রামী বেলুচিস্তানের লাল কোর্তা সংগঠনের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন।
গোপন কিশোর দলে আলতাফুরসহ মোট সদস্য পাঁচজন: দশম শ্রেণীর ছাত্র আখতার হোসেন, আলী আনসার, জিয়াউল হক মন্টু এবং নবম শ্রেণীর ছাত্র কায়সার হালিম ডাবলু। স্কুলের টিফিনের পয়সা, বাসার পুরোনো বইপত্র, ইলেকট্রিক ও খেলার সরঞ্জাম বিক্রির টাকা এবং স্কুল সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমানো টাকা একত্র করে যোগাড় হলো অস্ত্র ও প্লেনের টিকিট কেনার টাকা । আলী আনসার অবশ্য নিজেই দুটি পিস্তল কেনার টাকা দিয়েছিলেন। এরপর কায়সার হালিম, যাঁকে সবাই ডাবলু বলে ডাকত, আখতার হোসেন এবং জিয়াউল হক মন্টু করাচি থেকে হাজার মাইল দূরে আফগান সীমান্তের কাছে কোয়েটা শহরে তিনবার গিয়ে দুররানির সাহায্যে পাঁচটি পিস্তল সংগ্রহ করেন। কিন্তু তত দিনে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। ফলে তখন ঠিক হয়, বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃতি আদায় এবং পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের মুক্তির দাবিতে বিমান ছিনতাই করা হবে। এবং এটা করা হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসেই। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাই ২৫ মার্চের করাচি থেকে লাহোরগামী প্লেনের পাঁচটি টিকিট কেনা হলো। শেডিউল অনুযায়ী প্লেনটির সকাল সাতটায় করাচি বিমানবন্দর ছেড়ে যাবার কথা।
২৪ মার্চ বিকেলে আলতাফুর রহমান, আখতার হোসেন ও জিয়াউল হক মন্টু যাঁর যাঁর বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন। আগেই ঠিক করা ছিল, রাতে তাঁরা আনসারের বাসায় থাকবেন। কিন্তু আনসারের বাসায় গেস্ট থাকায় ওখানে থাকা হলো না। আনসারও বাসায় অতিথি রেখে বেরুতে পারলেন না। অগত্যা বাকি চারজন অর্থাৎ আলতাফ, আখতার, জিয়াউল হক মন্টু ও ডাবলু এয়ারপোর্টের কাছে এক রাতের জন্য টুরিস্ট ইন নামের একটি হোটেলে রাত কাটান।
২৫ মার্চ ভোর ছটায় তাঁরা চারজন একটি ট্যাক্সি করে হাজির হন করাচী এয়ারপোর্টে। সময়ের চেয়ে বেশি আগে চলে আসায় তাঁরা দেখলেন বোর্ডিং লাউঞ্জে একেবারেই ফাঁকা। কাছের একটা রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ঠিক তখনই আখতারের বাবা ও মামা ট্যাক্সি করে এয়ারপোর্টে এসে হাজির হলেন। কিছুক্ষণ পর আলতাফুরের ছোট চাচাও চলে এলেন। পরিবারের কাছে তাঁদের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেছে। আলতাফের বাবা তাঁদের এয়ারপোর্ট বাড়িতে নিয়ে এলেন ঠিকই কিন্তু ওখান থেকে বাসার লোকজনকে পিস্তল দেখিয়ে আবার এয়ারপোর্টের উদ্দেশে রওনা দিলেন আলতাফুর ও অন্যরা। এবার প্রথমে এয়ারপোর্টের কাছে একটি রেলওয়ের স্টক ইয়ার্ডে তাঁরা জড়ো হলেন এবং ওখান থেকে এয়ারপোর্টের দক্ষিণে কাঁটাতারের বেষ্টনীর কাছে চলে এলেন লুকিয়ে। কারণ তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন তাঁদের অভিভাবকেরা এয়ারপোর্টের প্রবেশপথে অপেক্ষা করবেন তাঁদের ধরার জন্য। তাঁদের ফাকি দেওয়া জন্যই এই বিকল্প পথে, কাঁটাতারের বেষ্টনী পেরিয়ে লাহোরগামী প্লেনে উঠার সিদ্ধান্ত। কিন্তু মুশকিল হলো তার কেটে এয়ারপোর্টের ভেতরে ঢোকার মতো কোনো কিছু তাঁদের হাতে নেই। খানিক নানা উপায় নিয়ে ভেবে শেষে বাধ্য হয়ে পরিকল্পনা স্থগিত করে বাসায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁরা।
তবে সোজা বাসায় না গিয়ে একটি ট্রাকে লিফট নিয়ে শহরের দিকে চলে আসেন তাঁরা। তারপর জাহাঙ্গীর পার্কে ঢুকে ওখানেই বসে থাকেন। বাসায় ফেরেন আরো পরে।
এপ্রিল মাসের কোনো এক দিন মধ্যরাতে আলতাফুর ও তাঁর সঙ্গীদের বাসায় হানা দেয় পুলিশ। গ্রেফতার হয় আলতাফুর, আখতার, কায়সার, আনসার ও জিয়াউল হক। রাতেই তাঁদের থানায় নিয়ে তখনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একত্র করা হয়। কথা আদায়ের জন্য শুরু হয় নির্যাতন। জানতে চাওয়া হয়, অস্ত্র কোত্থেকে কীভাবে সংগ্রহ করা হলো। প্লেন ছিনতাই করার পরিকল্পনা কবে, কখন থেকে এবং কী উদ্দেশ্যে করার চিন্তা করা হয়েছিল? কারা কারা এর সঙ্গে জড়িত। প্রায় তিন দিন ধরে চলে নির্যাতন। আলতাফুরের ভাষায়, ‘দুজন লম্বা-চওড়া পুলিশ বেত দিয়ে আমাদের সজোরে পেটাতে লাগল। মারতে লাগল চড় ও ঘুষি। একপর্যায়ে তারা আমাকে বেমক্কা আঘাত করে মাটিতে ফেলে দিল। তারপর আমাদের পা দুটো উঁচু করে টেবিলে রাখা কাঠের একটা রোলার এবং বেত দিয়ে সজোরে পায়ের পাতায় আঘাত করা হতে থাকে। আঘাতে চোখে সরষে ফুল দেখতে শুরু করি।’
তিন দিন পর (১৩ এপ্রিল ১৯৭২) দুপুরে আলতাফুর ও তাঁর দলকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য হাজির করা হয়। সেখান থেকে তাঁদের সবাইকে সোজা জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। কিছুদিন পর ওঁদের বাবাদেরও গ্রেপ্তার করা হলো। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: সন্তানদের পরিকল্পনা জানার পরও পুলিশকে খবর দেননি তাঁরা। ১৯ এপ্রিল তাঁদের মার্শাল ল কোর্টে নিয়ে যাওয়া হলো। অভিভাবকদের চেয়ারে বসতে দিয়ে আলতাফুরদের পেছনে দাঁড় করিয়ে রাখা হলো। তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জগুলো পড়ে শোনানো হলো। তাঁদের বিরুদ্ধে যে ধারায় কোর্টে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তাতে মার্শাল লর ১০ ধারা ও পেনাল কোডের ৩৯৯ ধারায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষমতা কোর্ট রাখে। আলতাফুরের পক্ষের আইনজীবী কোর্টে যুক্তি তুলে ধরলেন, তাঁরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। বাংলাদেশ তখন অনেক দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থন দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত এবং এর জন্য তাঁদের সময় দরকার। আসলে আলতাফুরের আইনজীবী চাচ্ছিলেন, যাতে কোর্টের প্রসিডিং কিছুদিনের জন্য মুলতবি রাখা হয়। কারণ, তখন শোনা যাচ্ছিল, পাকিস্তানে মার্শাল ল উঠিয়ে নেওয়া হবে। ফলে মামলা কিছুদিনের জন্য মুলতবি রাখা হয়। এর কয়েক দিন পর মার্শাল ল তুলে নেওয়া হয়। আর আলতাফুরদের মামলা চলে যায় বেসামরিক আদালতে বা সাধারণ কোর্টে। এরপর বিচার চলাকালীন আলতাফুরদের দল এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত জেলে ছিলেন এবং তাঁদের অভিভাবকদেরও জুন পর্যন্ত জেলে থাকতে হয়েছিল। জুনে অভিভাবকেরা এবং আগস্টে আলতাফুরের দল জামিন লাভ করে। পাকিস্তানে তখন বাঙালিদের বাংলাদেশে সরকারিভাবে ফেরত পাঠানো শুরু হয়। আলতাফুর রহমান, আখতার হোসেন, কায়সার হালিম, আলী আনসার, জিয়াউল হক তাঁদের পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এত দিন পর মধ্যবয়সী আইনজীবী আলতাফুর সেদিনের ঘটনা বলতে গিয়ে বলেন: ‘বাস্তবে তখন সম্ভব ছিল কি না; সে কথা না ভেবেই কত বড় বড় পরিকল্পনাই না করেছিলাম। আমার এবং আমাদের বন্ধুদের সেদিনের এ রকম প্রচেষ্টাকে অনেকেই হাস্যকর বলে মনে করতে পারেন। কিন্তু আমরা যা কিছু করেছিলাম, মাতৃভূমির সঙ্গে আমাদের অকৃত্রিম নাড়ির টান থেকে, গভীর দেশপ্রেমের বোধ থেকেই।’
বিমান ছিনতাই স্কোয়াডের সেদিনের সেই কিশোর সদস্যরা এখন কোথায়। আলতাফুরের কাছে জানা গেল, আখতার হোসেন একটি প্রাইভেট এয়ারলাইনসের পাইলট, আর আলী আনসার চট্টগ্রামে একটি ফটো স্টুডিওর মালিক এবং কনস্ট্রাকশনের কাজ করেন। জিয়াউল হক মন্টু আছেন কানাডায়। তাঁর খুব কাছের বন্ধু কায়সার হালিম, যাকে তিনি ডাবলু বলে ডাকতেন তিনি বেঁচে নেই। অসমসাহসী এবং দৃঢ় মনোবলের অধিকারী ডাবলু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুয়োলজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালের দিকে এক মেয়ের প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

'via Blog this'

Wednesday, May 9, 2012

In Queens, Seeking to Clear a Path Between Yoga and Islam - NYTimes.com

In Queens, Seeking to Clear a Path Between Yoga and Islam - NYTimes.com:

'via Blog this'

আমি শহীদ পরিবারের সন্তান - প্রথম আলো

আমি শহীদ পরিবারের সন্তান - প্রথম আলো:

আমি শহীদ পরিবারের সন্তান

| তারিখ: ২৩-০৩-২০১২
গণেশ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ম্যাট্রিক পাস করেও চাকরি জোগাড় করতে পারিনি’
গণেশ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ম্যাট্রিক পাস করেও চাকরি জোগাড় করতে পারিনি’
‘গাঢ় অন্ধকার যেন রাতের গভীরতাকে অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছিল। ঘড়ির কাঁটা সবে নয়টার ঘর ছুঁয়েছে। তার পরও রাতকে অনেক বেশি ঘনকালো ঠেকছিল সেদিন। আর সেই ভয়াল রাতেই ঘটে সেই অমানবিক ঘটনা। সন্ধ্যার পর থেকেই শ্রীশ্রী আনন্দমনি আশ্রম ও রমনা কালীবাড়ি মন্দির অনেক বেশি সুনসান হয়ে যায়। আর সেই সময়টা নিস্তব্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। আমার জ্যাঠা থাকতেন মন্দিরের ঠিক পাশেই। সেই বাড়িতে গিয়েছিলেন আমার বড় দুই বোন। ভয়াল সেই একাত্তরের ২৬ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন বড় জ্যাঠা। গুলি করেই ক্ষান্ত থাকেনি, মন্দিরের চারপাশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে মন্দিরের চারপাশের বসতির মানুষ যাঁরা বেঁচে ছিলেন, তাঁরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলি থেকে রেহাই পেলেও পুড়ে মারা যান আগুনে। জ্যাঠা গনেশ মুচি আর বড় দুই বোনসহ তিনজন শহীদ হন সেই ভয়াল রাতে। মেরে ফেলার জন্য সেদিন বাবাকেও লাইনে দাঁড় করানো হয়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে গুলিটা বাবার বুক ভেদ না করে পায়ে লাগে। প্রাণে বেঁচে যান বাবা।’ কথাগুলো বলার সময় দিলীপ মুচির কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ঠোঁটটা তিরতির করে কাঁপছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী আবাসিক হলের মূল ফটকে বসে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মুচির কাজ করেন তিনি। 
প্রখর রোদ। রোদের তীব্রতা এত বেশি যে ছোট নিচু একচালার নিচে বসেও রেহাই পাচ্ছেন না রোদ থেকে। এরই মাঝে সবে জুতায় আঠা মাখিয়ে রেখেছেন। অন্য জুতায় মাখছেন কালো কালি। কালি মাখা হাতেই কপালের ঘাম মুছে নেন তিনি। একটু থেমে আবার বলতে শুরু করেন শহীদ পরিবারের এই সন্তান। ‘বয়স তখন খুব বেশি নয়, দুই-তিন বছর হবে। তাই স্মৃতিতে কিছুই নেই। পুরো ঘটনা বাবার মুখেই শোনা। নিজের চোখের সামনে ভাই আর মেয়েদের মৃত্যুতে বাবা শোকাহত হন। তবে শোক প্রকাশের ফুরসত পাননি। ক্ষত পা নিয়ে বাবা আর মা ছোট্ট আমাকে নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। এরপর দেশ স্বাধীন হয়েছে ঠিকই; কিন্তু বাবার পায়ের ক্ষত রয়ে গেছে আজও। তবে মনের ক্ষত সবচেয়ে বেশি পীড়া দেয় তাঁঁকে। শত কষ্টের মাঝেও পুরান ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউট থেকে ম্যাট্রিক পাস করেছি। এরপর ড. শহীদুল্লাহ কলেজে আইএ ভর্তি হই। কিন্তু পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে পাসটা আর কপালে জোটেনি। শেষতক সংসারের হাল ধরতেই এই পেশায় নামা।’ প্রশ্ন করি অন্য সব পেশা বাদ দিয়ে কেন এই পেশায় এলেন? ‘আসলে সংসারে আমার পরের ছোট ভাইবোন, অন্যদিকে পঙ্গু বাবার দায়িত্ব নিতেই এই পেশায় আসা। বাবার স্বপ্ন ছিল আমি বড় চাকরি করব। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হলো না।’ কথা বলার ফাঁকে হাতের কাজের কোনো রকম হেরফের হচ্ছে না। ঠিকই নিপুণ হাতে জুতা সেলাই করছেন। জুতার ধরন বুঝে কোনোটায় রং করছেন। আবার ব্যাগ সেলাই থেকে শুরু করে ছাতা ঠিক করার কাজটা করে যাচ্ছেন। বলা যেতে পারে জুতা সেলাই থেকে চণ্ডী পাঠ বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন তিনি। গনেশ মুচি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ম্যাট্রিক পাস করেও কোনো চাকরি জোগাড় করতে পারিনি। এখন মুক্তিযুদ্ধের সনদ দিয়েই কত মানুষ চাকরি পাচ্ছে। অথচ একই পরিবারের তিনজন মানুষ শহীদ হয়েও কোনো চাকরি পাচ্ছি না। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে কী পেলাম আমরা?’
‘সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাবা নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি অন্য দেশে। বলেছেন, “একদিন স্বাধীনতা আসবে, আসবে সুখ।”
অথচ আজ আস্তাকুঁড়ে বেঁচে আছি। কোনো দিন ২০০, কোনো দিন ৩০০ টাকা উপার্জন করছি। দুই ছেলে, এক মেয়ে আর বাবা-মাকে নিয়ে ছোট ভাড়াবাড়িতে থাকছি কামরাঙ্গীর চরে। সংসার চলতেই চায় না। তার পরও দিন যায়, রাত আসে। শুধু স্বপ্ন বুনি সন্তানেরা লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। হয়তো স্বগর্বেই একদিন বলবে, “আমরা শহীদ পরিবারের কৃতী সন্তান।”’
 শারমিন নাহার

'via Blog this'